নিজস্ব প্রতিবেদক
বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অব.) হাফিজুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান এ আদেশ দেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, তিন দিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাইবাছাই করে পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, রিমান্ডে আমরা আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো এখন যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এছাড়া তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে, গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুর রহমানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলায় এটিই প্রথম কোনো গ্রেপ্তার, যা নতুন করে আলোচনায় এনেছে তনু হত্যাকাণ্ডকে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজন—অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পর তদন্তে গতি আসে এবং পরবর্তীকালে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এ পর্যন্ত চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন। ইতিমধ্যে অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ পার হলেও হত্যাকাণ্ডের মূলরহস্য উদঘাটনে দীর্ঘ সময় ধরে অগ্রগতি ছিল না।